Amal

দোয়া ও আমল

কখন কী পড়তে হয়: নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যা, দৈনন্দিন জীবন, বিপদ, পরিবার

"যাচাই বাকি" চিহ্নিত লেখাগুলো পরিবার ও একজন আলেমের যাচাই হচ্ছে। কোনো শব্দ ভরসা করার আগে ছাপা কিতাবের সাথে মিলিয়ে নিন।

ইউনুস (আ.)-এর দোয়া

বড় বিপদ ও কষ্টে

وَذَا ٱلنُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَٰضِبًۭا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِى ٱلظُّلُمَٰتِ أَن لَّآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبْحَٰنَكَ إِنِّى كُنتُ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

উচ্চারণযাচাই বাকি

লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যা-লিমী-ন।

অর্থ

স্মরণ কর যুন্-নুন এর কথা- যখন সে গোস্বাভরে চলে গিয়েছিল, আর ভেবেছিল যে তার উপর আমার কোন ক্ষমতা খাটবে না। অতঃপর সে (সমুদ্রের) গভীর অন্ধকার থেকে ডেকেছিল যে, তুমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তোমারই পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা করছি; বাড়াবাড়ি আমিই করেছি।

সূত্র: কুরআন ২১:৮৭ (হাদীসে এই দোয়ার ফজিলত এসেছে; সূত্র যাচাই বাকি)

হাসবুনাল্লাহ

ভয়, চাপ বা বিপদের সময়

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণযাচাই বাকি

হাসবুনাল্লা-হু ওয়া নি‘মাল ওয়াকী-ল।

অর্থ

আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

সূত্র: কুরআন ৩:১৭৩ ও সহীহ বুখারী

কষ্টের সময়ের দোয়া

দুশ্চিন্তা বা কষ্টের সময়

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

উচ্চারণযাচাই বাকি

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘আযী-মুল হালী-ম, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযী-ম, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল ‘আরশিল কারী-ম।

অর্থ

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান, ধৈর্যশীল। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি আসমানসমূহ, জমিন ও সম্মানিত আরশের প্রতিপালক।

সূত্র: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম

দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে আশ্রয়

দুশ্চিন্তা, মন খারাপ বা ঋণের চাপে

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণযাচাই বাকি

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবন, ওয়া দালা‘ইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের চাপ থেকে।

সূত্র: সহীহ বুখারী

ঋণমুক্তির দোয়া

ঋণ থাকলে বা আর্থিক সংকটে

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণযাচাই বাকি

আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার হালাল দিয়ে আমাকে হারাম থেকে যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্যদের থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন।

সূত্র: তিরমিযী

কাজ সহজ হওয়ার দোয়া (মূসা আ.)

কঠিন কাজ, পরীক্ষা বা বক্তব্যের আগে

قَالَ رَبِّ ٱشْرَحْ لِى صَدْرِى وَيَسِّرْ لِىٓ أَمْرِى وَٱحْلُلْ عُقْدَةًۭ مِّن لِّسَانِى يَفْقَهُوا۟ قَوْلِى

উচ্চারণযাচাই বাকি

Qala rabbi ishrah lee sadree Wayassir lee amree Wahlul AAuqdatan min lisanee Yafqahoo qawlee

অর্থ

মূসা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দাও আর আমার জন্য আমার কাজকে সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

সূত্র: কুরআন ২০:২৫-২৮

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ

যেকোনো সময়, বিশেষ করে তাওয়াফ ও দোয়ার শেষে

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ حَسَنَةًۭ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

উচ্চারণযাচাই বাকি

রাব্বানা- আ-তিনা- ফিদ দুনইয়া- হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা- ‘আযা-বান না-র।

অর্থ

লোকেদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা বলে থাকে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা কর।

সূত্র: কুরআন ২:২০১

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত

রাতে ঘুমানোর আগে

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

উচ্চারণযাচাই বাকি

Amana arrasoolu bimaonzila ilayhi min rabbihi walmu/minoona kullun amanabillahi wamala-ikatihi wakutubihiwarusulihi la nufarriqu bayna ahadin min rusulihiwaqaloo samiAAna waataAAna ghufranakarabbana wa-ilayka almaseer La yukallifu Allahu nafsanilla wusAAaha laha ma kasabatwaAAalayha ma iktasabat rabbana latu-akhithna in naseena aw akhta/narabbana wala tahmil AAalayna isrankama hamaltahu AAala allatheena minqablina rabbana wala tuhammilnama la taqata lana bihi waAAfuAAanna waghfir lana warhamnaanta mawlana fansurna AAalaalqawmi alkafireen

অর্থ

রসূল (সাঃ) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মু’মিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, (তারা বলে), ‘আমরা রসূলগণের মধ্যে কারও ব্যাপারে তারতম্য করি না’ এবং তারা এ কথাও বলে যে, ‘আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা কর আর প্রত্যাবর্তন তোমারই দিকে’। আল্লাহ কোন ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না, সে ভাল যা করেছে সে তার সওয়াব পাবে এবং স্বীয় মন্দ কৃতকর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আগের লোকেদের উপর যেমন গুরু-দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না; হে আমাদের প্রতিপালক! যে ভার বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই, এমন ভার আমাদের উপর চাপিয়ে দিও না, (ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে) আমাদেরকে রেহাই দাও, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর; তুমিই আমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাদেরকে কাফিরদের উপর জয়যুক্ত কর।

সূত্র: কুরআন ২:২৮৫-২৮৬ (ফজিলত হাদীসে এসেছে; সূত্র যাচাই বাকি)